ব্যবহারের আগে নির্দেশনাবলী ভালোভাবে পড়ুন ও মেনে চলুন।
গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও ফলাফলের জন্য মাটিতে জিংক (দয়া) ও সালফার (গন্ধক) উপাদান থাকা আবশ্যক। মাটিতে এদের কোন একটির অভাব দেখা দিলে প্রয়োজনীয় রাসায়নিক সার (ইউরিয়া, টিএসপি, পটাশ, ইত্যাদি) ব্যবহার করা স্বত্বেও আশানুরূপ ফলন পাওয়া যায় না।
আলোক জিংক পালস সারের বৈশিষ্ট্যঃ
১. পানিতে শতকরা ৯৮ ভাগ দ্রবনীয় বলে ফারমার্স জিংক ব্যবহারের পর পরই গাছ শিকড়ের সাহায্যে অতি দ্রুত গ্রহণ করে আর তাই অপচয় কম হয়।
২. আলোক জিংক পালস ব্যবহারের ফলে প্রয়োগকৃত অন্যান্য সার এর পুষ্টি উপাদান গাছ খুব সহজে এবং কম সময়ে দ্রুত গ্রহণ করতে পারে।
৩. আলোক জিংক পালস এ অলীয় অংশের পরিমাণ শতকরা ১ ভাগের কম থাকার কারণে অনেকদিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়।
জিংকে অভাব জনিত লক্ষণঃ
১. পাতায় ফোঁটা ফোঁটা দাগ পড়ে, রং তামাটে হয়ে যায়
২. পাতার শিরা ও কিনারা হলুদ বর্ণ হয়ে যায়
৩. পুরাতন পাতায় মরিচা দাগ পড়ে
৪. নতুন পাতা ছোট হয়ে ঝুঁকড়িয়ে যায় এবং
৫. ফলন অস্বাভাবিক কমে যায়।
সালফারের অভাব জনিত লক্ষণঃ
১. গাছের বৃদ্ধি ও শিকড়ের বিস্তার বন্ধ হয়ে যায়।
২. কচি পাতা হলুদ হয়ে যায়।
৩. দানাদার ফসলে কুশির সংখ্যা ও শীর্ষে দানার সংখ্যা
কমে যায়।
৪. দানাদার ফসল দেরিতে পাকে, চিটা হয় এবং ফলন কমে যায়।
প্রয়োগ পদ্ধতিঃ
১. বীজতলাতে বীজ বপনের আগে ছিটিয়ে প্রয়োগ করতে হবে।
২. জমি তৈরী করার সময় পরিমাণ মত আলোক জিংক পালস এমন ভাবে ছিটাতে হবে যেনো সবখানে মোটামুটি সমানভাবে পড়ে।
৩. সেচের পানির সাথে মিশিয়েও ব্যবহার করা যায়।
৪. আলোক জিংক পালস টিএসপি বা ফসফরাস সারের সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করা যাবে না।
প্রয়োগ ক্ষেত্রঃ পটল, করলা, চিচিংগা, ঝিংগা, বাঁধাকপি, ধাম, গম, আলু, ভুট্টা, ইক্ষু, বেগুন, কুমড়া, শশা, ফুলকপি, মরিচ, আনারস, তরমুজ ইত্যাদি ফসলে আলোক জিংক পালস সার ব্যবহার করলে আশানুরূপ ফল পাওয়া যায়।
প্রয়োগ মাত্রাঃ
প্রতি একরে ৩-৫ কেজি বা বিখা (৩৩ শতাংশ) প্রতি ১ কেজি। প্রয়োজনে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োগ মাত্রা গ্রাম বৃদ্ধি করা যেতে পারে।
সতর্কতাঃ
শিশু, পশু-পাখি ও খাদ্য সামগ্রীর নাগালের বাইরে রাখুন। টিএসপি ও ডিএপি সারের সাথে মিশিয়ে ব্যবহার
করা যাবে।
সংরক্ষণঃ শুদ্ধ ও স্বায়াযুক্ত স্থানে রাখুন।